মাত্র ১০-১৫ মিনিটের ফুল চার্জে সারা দিন অনায়াসেই চালানো সম্ভব হচ্ছে।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে স্মার্টফোন আর কেবল কথা বলার মাধ্যম নেই। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রিতে এক বিশাল পরিবর্তন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ফোল্ডেবল ডিসপ্লে—এই দুটি বিষয় এখন মূল আকর্ষণ।
স্মার্টফোনে এআই-এর প্রভাব: এখনকার স্মার্টফোনগুলোতে বিল্ট-ইন এআই চিপসেট ব্যবহার করা হচ্ছে যা ব্যবহারকারীর অভ্যাস বুঝে ফোনের পারফরম্যান্স নিয়ন্ত্রণ করে। আপনি যদি গেমার হন, তবে ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রসেসরের পাওয়ার বাড়িয়ে দেয়। আবার সাধারণ ব্যবহারের সময় এটি ব্যাটারি সাশ্রয় করে। শুধু তাই নয়, ক্যামেরা প্রযুক্তিতে এআই এখন ছবির ডিটেইলস এবং নাইট মোডকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যা আগে কেবল ডিএসএলআর ক্যামেরায় সম্ভব ছিল।
ফোল্ডেবল ফোনের জনপ্রিয়তা: একটা সময় ফোল্ডেবল ফোন শুধু শখের বস্তু থাকলেও, ২০২৬ সালে এটি সাধারণ মানুষের নাগালে চলে এসেছে। স্যামসাং, গুগল এবং অ্যাপল (যাদের ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষা ছিল) এখন পাতলা এবং টেকসই স্ক্রিন বাজারে এনেছে। এই ফোনগুলো ভাঁজ করলে সাধারণ ফোনের মতো পকেটে রাখা যায়, আবার খুললে ছোটখাটো ট্যাবলেটের কাজ করে। বিশেষ করে মাল্টি-টাস্কিং এবং ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য এই ডিসপ্লেগুলো পেশাদারদের প্রথম পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাটারি ও চার্জিং প্রযুক্তি: স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের বড় দুশ্চিন্তা ছিল ব্যাটারি ব্যাকআপ। নতুন প্রযুক্তির গ্রাফিন ব্যাটারি এখন স্মার্টফোনে জায়গা করে নিচ্ছে। এতে করে ফোন যেমন হালকা হচ্ছে, তেমনি মাত্র ১০-১৫ মিনিটের ফুল চার্জে সারা দিন অনায়াসেই চালানো সম্ভব হচ্ছে। ওয়্যারলেস চার্জিং এখন প্রতিটি ক্যাটাগরির ফোনেই পাওয়া যাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ কী বলছে? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে স্মার্টফোন হয়তো আমাদের হাতের তালু থেকে সরাসরি চোখে বা চশমায় (Smart Glasses) চলে যাবে। তবে আপাতত স্মার্টফোন নির্মাতারা সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যারের এমন এক মেলবন্ধন তৈরি করছে যেখানে মানুষের কাজ হবে আরও সহজ এবং দ্রুত।